|
শিক্ষা ব্যবস্থা গোলাপগঞ্জ একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ভূখন্ড। তাই প্রাচীনকাল থেকে এখানে শিক্ষালাভের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। প্রাচীনকাল এই অঞ্চলে হিন্দু ধর্মেও প্রভাব বিস্তারের সাথে সাথে ভারতের বিভিন্ন থেকে যথেষ্ঠ সংখ্যক ব্রাক্ষণ ও কায়েস্থ পরিবার এখানে স্থায়ী ভাবে বসবাস করতে আসে। শ্রীট্টর ইতিবৃত্ত সহ বিভিন্ন গ্রন্থে এতদঞ্চলের যে সকল প্রধান বংশের বিবরন দেওয়া হয়েছে তাদের অধিকাংশের ক্ষেত্রেই একতা প্রযোজ্য। সমগ্র হিন্দু যুগে সমাজ জীবনের সকল ক্ষেত্রের ন্যায় শিক্ষাঙ্গনে ছিল এই অভিজাত শ্রেনীর অপ্রতিহিত প্রভাব। সেকালে বিভিন্ন প্রতিভা দৃপ্ত ব্যক্তিত্বের সাক্ষাৎ পাওয়া গেলেও সাধারন মানুষের শিক্ষার স্তর যে সন্তোষজনক ছিলোনা তা অনুমান করা যায়। বর্নশ্রমাশ্রিত হিন্দু সমাজের সহজাত জাতাভিমানের অদৃশ্য নিশেধে শিক্ষার আলো সাধারন মানুষের পুর্ন কুঠিরে পৌছাতে পারেনি। তখন এই সকল উচ্ছ বর্ণের মানুষের সাথে সাধারন গনমানুষের দুরত্ব এত বেশী ছিল যে সর্বত্র উত্তম ও অধম লোকের অস্তিত্বের কথা তারা উল্লেখ করলেও সিলেটে মাধ্যম শ্রেনীর লোকের অস্তিত্বটুকু তারা কিন্তু নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিপন্ন করার স্বার্থেই বেমালুম অস্বীকার করে বসেন। ‘শ্রীহট্টে মাধ্যমা নাক্তি’ এই উক্তির নিগলিতার্থ এর চেয়ে ভিন্ন হতে পারে না। (সিলেট অঞ্চলের শিক্ষাঙ্গন, অতীত ও বর্তমান ঃ রসময় মোহান্ত ) ডঃ আর সি মজুমদার তার ‘বাংলাশের ইতিহাস’ গ্রন্থে লিখেছেন ‘গ্রামে খড়ের ঘরে কোন বাড়ীর চন্ডীমন্ডপে বা খোলা জায়গায় পাঠশালা বসিত।গুরু মহাশয়েরা খুব সামান্যই বেতন পাইতেন। কিন্তু ছাত্ররা বিদ্যা সাঙ্গ করিয়া গুরু দক্ষিনা দিত। গুরু মহাশয়েরা বেতের কার্পন্য করিতেন না। হাত পা বাধাঁ, বুকের উপর চাপিয়ে বসা প্রভৃতি শাস্থির ব্যবস্থাও ছিল। কড়ি ও পাথরের কুচি দিয়া সংখ্যা গণনা, যোগ বিয়োগ শিক্ষা দেওয়া হইত। শিশুরা প্রথমে বালির উপর খড় কূটা দিয়ে লিখত, ক্রমে ক্রমে কলাপাতায়, তালপাতায়, খাতা ও বাশেঁর কঞ্চি দিয়া লেখার অভ্যাস করিত। তালপাতা ও ভূজপাত্রে পুতি লেখা হইত। হরিতকি বয়ড়ার রস প্রদীবের কাল তুষায় কালি তৈরী হইত। ডঃ মজুমদার আর জানিয়েছেন ‘আমাদেও দেশে উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে শতকরা আট জনের বেশি পাঠশালায় পড়তোনা এবং ছয় জনের বেশি লেখাপড়া জানতো না।এটাই বাংলাদেশের তৎকালিন শিক্ষা ক্ষেত্রে বাস্তব সত্য এতে কোন সন্দেহ নেই। টোল চতুস্পটিতে সংস্কৃত ভাষায় শিক্ষা দান করা হত। সাধারন গুরু গৃহে অধ্যায়ন ও অধ্যাপনা চলতো। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডঃ আর বি মজুমদার) আধুনিক শিক্ষার যে প্রতিষ্ঠানিক রূপ আমরা দেখতে পারছি তার গোড়াপত্তন হয়েছিল বৃটিশ আমলে, অষ্ঠাদশ শতাব্দীর মধ্যেভাগে, অবশ্য প্রথম দিকে বৃটিশদের মধ্যেও এদেশে এ শিক্ষা প্রবর্তনের ক্ষেত্রে মতদ্বৈত্যতা ছিল। কিন্তু তাদের ঊপনিবেশিক স্বার্থের প্রয়োজনে এবং বৃটিশ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ি ইংরেজ শিক্ষার প্রবর্তন ঘটিয়ে ছিল। সবারই জানা আছে মুসলমানেরা বিভিন্ন কারনে এই শিক্ষায় অংশ গ্রহন করেনি। কিন্তু হিন্দু সম্পদায় ইংরেজী শিক্ষার সুযোগ গ্রহন করে শিক্ষা দীক্ষায় সুস্পষ্ট প্রাধান্য বিস্তার করে। পরবর্তী কালে মুসলমানদের বোধোদয় ঘটলেও ঊনবিংশ শতাব্দীর। তিরিশ চল্লিশের দশকে ভারতবর্ষেও বিদ্যালয় সমূহে মুসলমান ছাত্রের সংখ্যা ছিল নিতান্তই নগন্য। এটা তদানিন্তও গোটা ভারত বর্ষেরই সাধারন চেহারা। আমাদের দেশে শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতিতেও কিছু উজ্জ্বল ব্যতিক্রম ছাড়া এই ব্যাবস্থাই প্রতিফলন ঘটতে দেখা যায়। পরবর্তীতে পাকিস্তানের স্বাধীনতা অর্জীত হবার পর শিক্ষার ক্ষেত্রে কিছুটা উন্নতি হলেও সামগ্রিক জনসংখ্যার বিচারে সন্তোষজনক ছিল না। পাকিস্থান আমলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার ইতিহাস মূলত ভাষার প্রশ্ন ও পাকিস্থান গনবিরোধী শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের ইতিহাস। গোলাপগঞ্জ যেহেতু এই প্রবাহেরই মধ্যে দিয়ে এই ঐতিহাসিক কাল অতিক্রম করেছে সুতরাং এ অঞ্চলের শিক্ষার ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ঐতিহাসিক রূপান্তর ও গতি পরিণতির সাথে সিলেট অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার মোটামুটি মিল থাকলেও তার ভূয়া রাজনৈতিক অবস্থান এ ক্ষেত্রে কতগুলো জটিলতাও সংযোজন করেছে। বৃহত্তর সিলেট জেলার আকার ও আয়তন বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত ও পূর্নবিন্যস্থ হয়েছে।১৯৭৫ সালে এই অঞ্চল বৃটিশ অধিকারে যাওয়ার পর তৎকালিন বঙ্গদেশের অন্তুর্ভূক্ত ছিল। ঢাকা ভিবাগের অংশ হিসাবে, তদানীন্তন বড় লার্ড নর্থ ক্লকের শাসন কারেল ১৮৭৪ সালে তা যুক্ত হয় আসাম প্রদেশের সাথে। ১৯৪৭ আবার এই অঞ্চল কিছুটা পরিবর্তিত আকারে চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তুর্ভূক্ত হয়ে ফিওে আসে তৎকালীন পূর্ব বাংলায়। এই যাওয়া আসার চাপ যেমন এখানকার জনজীবনে, তেমনি প্রতিক্রীয়া সৃষ্টি হয়েছে তাতর শিক্ষার ক্ষেত্রেও। ( সিলেট অঞ্চলের শিক্ষাঙ্গন অতীত ও বর্তমানÑরসময় মোহান্ত ) বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্থেও গোলাপগঞ্জ থানা এক গৌরবময় অতীতের অধিকারী। বৃটিশ আমলে সমগ্র আসামের মধ্যে এ থানার শিক্ষার হার ছিল শীর্ষে। কিন্তু বর্তমানে এ অঞ্চলের শিক্ষার অগ্রগতিতে যে দারুন সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা’ সমাজের সচেতন অংশকে ভাবিয়ে তুলেছে, যদিও এ ধস হঠাৎ কওে নেমে আসেনি। বিভিন্ন অনিবার্য কারনে ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ না নেয়ার ফলে এ থানার শিক্ষাঙ্গনে ক্রমান্বয়ে করুন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় গোলাপগঞ্জের আজকের আধুনিক উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থার বিস্থার লাভের পেছনে মূল চালিকা শক্তি হিসাবে অবদান রেখেছে প্রথমিক শিক্ষা।গোলাপগঞ্জে বর্তমান মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পূর্বে যে সমস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে তার সবগুলো হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা সম্বলিত প্রতিষ্ঠান। গোলাপগঞ্জে ১৪০ টি সরকারী ও ১৭ টি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৭,৫০২ জন শিক্ষার্থী ও ৫২০ জন ্িরশক্ষক রয়েছেন।মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২৪ টি।এতে ৯২৬১ জন শিক্ষার্থী ও ২৩৭ জন ্িরশক্ষক রয়েছেন। গোলাপগঞ্জে ৩ টি কলেজ রয়েছে এর মধ্যে অন্যতম হল ঢাকাদক্ষিন ডিগ্রি কলেজ। নীচে গোলাপগঞ্জের উল্লেখযোগ্য কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি তুলে ধরা হল - |