ইতিহাস ও ঐতিহ্য
| কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য টিটু যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাডোনা ইউনিভার্সিটি থেকে গোল্ডম্যাডেল অর্জন করেছে |
|
|
|
| বুধবার, 28 জুলাই 2010 14:42 | |
|
ইমরান আহমদ: এককালে শিক্ষা ক্ষেত্রে গৌরব গাঁথা ইতিহাস ছিল সিলেট তথা গোলাপগঞ্জ উপজেলার। কালের বিবর্তনে শিক্ষা ক্ষেত্রে গোলাপগঞ্জ উপজেলার সুনাম অক্ষুন্ন রাখা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে বিদেশ প্রবণতা সিলেটের অতীত ইতিহাসকে ম্লান করে দিয়েছে। বর্তমানে সিলেটীরা বিদেশেও অত্যন্ত সুনামের সাথে শিক্ষাসহ বিভিন্ন পেশায় সুনাম অর্জন করে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের সম্মান উঁচু করে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। তেমনি এক কৃর্তিমান গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১নং বাঘা ইউপির গৌরাবাড়ী গ্রামের সুদিপ দেব টিটু। টিটু যুক্তরাষ্ট্রের মিসিগান সিটির ম্যাডোনা ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যাচলর অফ সাইন্স ইন ইন্টারন্যাশন্যাল উইথ হাইয়েস্ট অনার্স ডিগ্রী অর্জন করে গোল্ডম্যাডেল পেয়েছে। যা সিলেট তথা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের। তার এ ফলাফল বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের সম্মানকে আরেক দাপ এগিয়ে দিল। টিটু ২০০৭-২০১০ সেশনে ম্যাডোনা ইউনিভার্সিটি থেকে বিএসসি অনার্স চুড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে। চুড়ান্ত পরীক্ষায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহনকারী চার’শ শিক্ষার্থীর মধ্যে সকলের ফলাফল সন্তোষজনক হলেও ব্যাচলর অফ সাইন্স ইন ইন্টারন্যাশন্যাল উইথ হাইয়েস্ট অনার্স ডিগ্রী অর্জন করে এশিয়া মহাদেশের পাঁচজন শিক্ষার্থী। এই কৃর্তিমান পাঁচ জনকে দেয়া হয় গোল্ডম্যাডেল। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের একমাত্র কৃর্তিমান হচ্ছে সুদিপ দেব টিটু। গোল্ডম্যাডেল লাভকারী এশিয়ার অন্যান্য দেশ গুলো হচ্ছে ইন্ডিয়া ৩টি, পাকিস্থান ১টি ও বাংলাদেশ ১টি। সুদিপ দেব টিটু ১৯৮৬ সালে বাঘা গৌরাবাড়ী গ্রামের মৃত মনিলাল দেব’র পুত্র দুবাই অ্যামিরেটস এয়ারলাইন্স এর কর্মরত সুধাংশু দেব ও গৃহীনি সিমা রানী দেব’র কোলে জন্ম গ্রহন করে। টিটু গোলাপগঞ্জের ১নং বাঘা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় (ভারত বাবুর স্কুল নামে খ্যাত) থেকে শিক্ষা জীবন শুরু করলেও মাত্র ছয় বছর বয়সে বাবা মা’র সাথে পাড়ি জমায় সংযুক্ত আরব আমিরাত। গর্বিত পিতা-মাতাকে নিয়ে টিটু জন্মভূমি বাঘা গৌরাবাড়ী আসলে গোল্ডম্যাডেল অর্জনকারী টিটুকে দেখার জন্য আশপাশের লোকজন প্রতিনিয়ত ভীড় জমাচ্ছেন তার বাড়ীতে। তার অর্জিত ফলাফলের বিষয় নিয়ে আলাপকালে টিটু এ প্রতিবেদককে জানায়, অর্জিত ফলাফল শুধু আমার একার নয়, এটা সারা বাংলাদেশের জন্য অর্জিত গৌরব। তার এ ফলাফল অর্জনের পিছনে শিক্ষকের ভূমিকা, পিতা মাতার অদম্য ইচ্ছা ও তার একনিষ্ঠ অধ্যবসায়ই এমন স্থানে পৌছে দিতে সহায়তা করেছে বলে সে মনে করে।ছোটবেলা থেকেই সুদিপ দেব টিটু পড়াশুনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিল এবং আরো উচ্চতর ডিগ্রী অর্জনের জন্য পিতা মাতার সাথে খুব শীঘ্রই আবার প্রবাসে পাড়ি জমাবে বলে তার কাকা হরিপদ দেব জানান। গোলাপগঞ্জের স্বর্ণ যুগের ইতিহাস ও পূর্বেকার গোলাপের সুভাষ ফিরিয়ে আনতে জ্ঞানার্জন-ই সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা হিসাবে মনে করে টিটু। সর্বোপরি সে সকলের দোয়া ও আশির্বাদ প্রার্থী।
|














